Logo
Logo
TV
ব্রেকিং নিউজঃ
Friday 16th April 2021
জাতীয়
নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই
 SUNNEWSBD.COM
 Publish: 27-Mar-2021

নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৩, শনাক্ত ৩৭৩৭



সাননিউজবিডি ডটকম ডেস্কঃ জাতীয়।। নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আগের দিনের তুলনায় পরের দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত চার দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের ওপরে রয়েছে। মৃতের সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি হলেও শনাক্তের হার বাড়ছে। গত বছরের ২ জুলাই গত চব্বিশ ঘণ্টার তুলনায় বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিন চার হাজার ১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রায় নয় মাস পর আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারও বেড়ে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত ৫ ডিসেম্বরের পর একদিনে এটিই সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও তিন হাজার ৭৩৭ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ১৩২ জনে পৌঁছল। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৩৩ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় মোট আট হাজার ৮৩০ জনের মৃত্যু হলো। এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত আরও দুই হাজার ৫৭ জন সুস্থ হয়েছেন। সব মিলিয়ে করোনা আক্রান্ত মোট পাঁচ লাখ ৩১ হাজার ৯৫১ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, গত কয়েক দিন ধরে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়লে বিপদ আরও বাড়বে। সুতরাং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিপদ আরও বাড়বে।

করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজন মারা যান। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। ওই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এর পর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। দুই মাস সংক্রমণ নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরের শুরুর দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু আবারও বাড়তে শুরু করে। ডিসেম্বর থেকে আবারও কমে। ১৮ জানুয়ারির পর থেকে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে ছিল। এর পর শনাক্তের হার প্রতিদিনই ৫ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু গত ৯ মার্চ তা বেড়ে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছে। গত ১৮ মার্চ শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশে পৌঁছে। একই দিন দুই হাজার ১৮৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। ১০০ দিনের মধ্যে একদিনে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দুই হাজার ২০২ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হন। ১৯ মার্চ আক্রান্ত কিছুটা কমে এক হাজার ৮৯৯ জনে দাঁড়ায়। ওই দিন শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০ মার্চ নতুন রোগী শনাক্ত হয় এক হাজার ৮৬৮ জন। ২১ মার্চ শনাক্ত হয় দুই হাজার ১৭২ জন। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছায়। ২২ মার্চ আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে দুই হাজার ৮০৯ জনে পৌঁছায়। দৈনিক শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। গত বছরের ২০ আগস্টের চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন দুই হাজার ৮৬৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। ২৩ মার্চ একলাফে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৫৫৪ জনে পৌঁছে। গত আট মাসের মধ্যে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা ছিল। ২৪ মার্চ আক্রান্ত হয় আরও তিন হাজার ৫৮৭ জন। গত ১৬ জুলাই এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৫ মার্চ আক্রান্ত আরও বেড়ে তিন হাজার ৫৮৭ জনে পৌঁছায়। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত আরও বেড়ে তিন হাজার ৭৩৭ জনে পৌঁছাল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে ২২৪টি পরীক্ষাগারে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৬৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ২৯৯টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০টি। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সর্বোচ্চ সতর্কতার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের :করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি সমকালকে বলেন, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ মানুষকে ঘরে রাখতে উৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, সে জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ বাংলাদেশে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব হবে নয়। লকডাউন কিংবা সাধারণ ছুটি নিয়ে পূর্বঅভিজ্ঞতা ভালো নয়। সরকার ছুটি ঘোষণার পর মানুষ দল বেঁধে গ্রামে চলে গেছে। এতে করে সংক্রমণ আরও বেড়ে যায়। সুতরাং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ সমকালকে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের নতুন ধরন বাংলাদেশেও এসেছে। কয়েকজন শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে আরও মানুষ আসছে। ওই নতুন ধরনটি মারাত্মক এবং এর সংক্রমণ ছড়ালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। সুতরাং সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ট্যুরিজম এলাকা থেকে ফিরে অধিকাংশ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। গত ১৫ দিনে ২৫ লাখের ওপরে মানুষ কক্সবাজারে ভ্রমণে গিয়েছেন। সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে ট্যুরিজম স্পট, বিয়েসহ যে কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিষয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে জনগণকে সচেতন হতে হবে। নিজেরা সচেতন না হলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেও কোনো ফল মিলবে না।





এমদাদুল ইসলাম ( ইনতা )
সম্পাদক
সাননিউজবিডি ডটকম




এখানে আরও খবর রয়েছে





তারিখ অনুযায়ী খবর দেখুনঃ



Design & Developed By: VARSOFT.INFO
Cell: +8801511 566665