Logo
TV
ব্রেকিং নিউজঃ
Wednesday 28th February 2024
তথ্য-প্রযুক্তি
‘আমরা চাঁদের দেশে যাব’অবান্তর কিছু নয়
 SUNNEWSBD.COM
 Publish: 29-Aug-2023

‘আমরা চাঁদের দেশে যাব’অবান্তর কিছু নয়



সাননিউজবিডি ডটকম, তর্থ্য প্রযুক্তি ডেস্ক॥ ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরে জনসভায় বলেছিলেন, ‘আমরা চাঁদের দেশে যাব’। তার এই বক্তব্য অবান্তর কিছু নয়। ক্ষমতায় আসার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা মহাকাশ জয় করব’। আর সেটা তিনি করে দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এখন মহাকাশে। সেটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের জনগণ এর সুফল পাচ্ছে। জয় করেছে মহাকাশ। বাংলাদেশ ২০১৮ সালের ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করে। মহাকাশ জয়ের এক বিস্ময়কর ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ তৈরি করেছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের অ্যালেনিয়া স্পেস। এটি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সম্প্রচার উপগ্রহ ও ভূস্থির যোগাযোগের স্যাটেলাইট। ২০১৮ সালের ১১ মে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) রাখা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন ৫০০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূল্য ৫০০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা এবং পরিচালনায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক এবং কোম্পানি সচিবসহ প্রায় ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটিই বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব ও পরিচালিত কৃত্রিম উপগ্রহ। এ কৃত্রিম উপগ্রহটি গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় অবস্থিত উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। চলতি বছর এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইটের অভিযানের সময়কাল থাকবে ১৮ বছর। স্যাটেলাইটটি আবহাওয়া, নজরদারি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার হবে। দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’-এর ধরন নির্ধারণের জন্য ফ্রান্সের প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সকে (পিডব্লিউসি) নিয়োগ দিয়েছে বিএসসিএল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১ লাখ ৮৫ হাজার ডলারের (১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) চুক্তি হয়েছে।

কোন স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী তা ঠিক করতে পিডব্লিউসি পর্যালোচনা করে তিন মাসের মধ্যে বিএসসিএলকে পরামর্শ দেবে। বিএসসিএল সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের পরামর্শক নিয়োগ করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ২১টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়। চারটি প্রতিষ্ঠান জমা দেয়। সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সকে (পিডব্লিউসি) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শীঘ্রই চাঁদেও স্যাটেলাইট পাঠাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে চাঁদে স্যাটেলাইট পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট বা এটুআই প্রোগ্রাম কর্তৃপক্ষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে গ্রেট লুনার এক্সপিডিশন ফর এভরিওয়ান বা গ্লি (এখঊঊ) মিশনের আওতায় বাংলাদেশ চাঁদে স্যাটেলাইট পাঠাবে। নাসার এ প্রকল্পে মোট ২২টি দেশ অভিযান চালাবে চাঁদে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। অনেক দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চাঁদে অভিযানের এ সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

২২টি দেশই চাঁদের বিভিন্ন স্থানে স্যাটেলাইট পাঠাবে। ফলে ওই স্যাটেলাইটগুলো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাবে চাঁদের আবহাওয়া। আসলে মানুষের বসবাসের জন্য চাঁদ কতটা উপযোগী তা পরীক্ষা করাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এটুআই প্রজেক্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে প্রেরণ করবে তার নাম ‘ফেমটো স্যাটেলাইট’, যা আকারে খুব বড় নয়। এ স্যাটেলাইট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে নাসার কলোরাডো স্পেস গ্র্যান্ট কনসোর্টিয়াম। নাসা থেকে স্যাটেলাইটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ২০২২ সালে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। যন্ত্রাংশগুলো দেশে বসেই অ্যাসেম্বল করবে বাংলাদেশ টিম। এ প্রকল্পে বাংলাদেশের ৬০ জন কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

অ্যাসেম্বল করার পর তা টেস্ট করে স্যাটেলাইটের প্রোগ্রামিংও করা হবে দেশেই। এরপর এই মিশন নিয়ে একটা পরিকল্পনা পাঠাতে হবে নাসার দপ্তরে। সেই পরিকল্পনায় কোডিং থেকে শুরু করে প্রোগ্রামিংসহ যাবতীয় বিষয় উল্লেখ থাকবে। চাঁদে এই স্যাটেলাইট কী কাজ করবে সেটাও পরিকল্পনার মধ্যে জানাতে হবে। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের আগে তা পাঠাতে হবে নাসার দপ্তরে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবকিছু ঠিক থাকলে নাসার সহযোগিতায় উৎক্ষেপণ করা হবে স্যাটেলাইটটি। সেখানে চাইলে বাংলাদেশ টিম সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে বাংলাদেশের সদস্যদের নিজ খরচে যেতে হবে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে। যা হোক, বাংলাদেশের এক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।

১৪ জুলাই দুপুর ২ট ৩৫ মিনিট ইতিহাস গড়ার পথে প্রথম পা বাড়িয়েছিল ভারতের চন্দ্রযান-৩। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে চাঁদের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর এই মহাকাশযান। দিনরাত এক করে, খাওয়া-ঘুম ছেড়ে একে একে ৪০ দিন কাটিয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। নজর রেখেছিলেন চন্দ্রযান-৩-এর গতিবিধির ওপর। ইতিহাস তৈরির মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকবে বলে অপেক্ষায় ভারতবাসী। অবশেষে অবসান হলো সেই অপেক্ষার। ভাসতে ভাসতে চাঁদের বুকে পা রাখল চন্দ্রযানের ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল ভারত। চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যের পর ভারতজুড়ে উৎসবের আমেজ।

আবেগে ভাসছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। তৃতীয় বিশ্বের দেশের চোখ টাটিয়ে দেওয়া সাফল্যে শুভেচ্ছা বার্তা আসছে প্রথম বিশ্বের দেশগুলো থেকেও। ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২-এর ব্যর্থতার পর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় ইসরোর চাঁদের মাটি ছোঁয়ার স্বপ্ন। কান্নায় ভেঙে পড়েন ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান শিবন। কিন্তু দমে যাননি তারা। নেমে পড়েন চন্দ্রযান-৩-এর কাজে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে চাঁদের মাটি ছোঁয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তারা। ইতিহাস তৈরির লক্ষ্যে নতুন করে পথ চলা শুরু করে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসে ইসরো এই প্রকল্পটি শুরুর জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রাথমিকভাবে ৭৫ কোটি রুপি বরাদ্দ চেয়েছিল। যার মধ্যে ৬০ কোটি রুপি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য এবং বাকি ১৫ কোটি রুপি রাজস্ব ব্যয়ের জন্য চাওয়া হয়।

টাকা পেয়ে কাজ শুরু করে ইসরো। ভাসতে ভাসতেই অবতরণের উপযুক্ত জমি খুঁজে পেয়েছিল ল্যান্ডার বিক্রম। ২৩ আগস্ট রোভার প্রজ্ঞানকে পেটের ভেতরে নিয়ে সেখানেই ‘পাখির পালকের মতো অবতরণ’ (সফ্ট ল্যান্ডিং) শুরু করে। চার বছর আগে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরোর ‘চন্দ্রযান-২’। কিন্তু চন্দ্রযান-৩ বিফলে যায়নি। ভারত সফল চন্দ্রাভিযান দেখিয়েছে বিশ্ববাসীকে। বাংলাদেশও দেখাবে চদ্রাভিযান একদিন- এই আশাই বাংলার জনগণের।

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কর কমিশনার ও পরিচালক-বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কো. লি.





এমদাদুল ইসলাম ( ইনতা )
সম্পাদক
সাননিউজবিডি ডটকম




এখানে আরও খবর রয়েছে





তারিখ অনুযায়ী খবর দেখুনঃ



সর্বাধিক পঠিত